🕋
غافر
(৪০) আল-মু'মিন বা গাফির
৮৫
১ ⋮
حم ﴿١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হা-মীম,
২ ⋮
تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ﴿٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ গ্রন্থ আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকেই নাযিল হয়েছে, (তিনি) পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ,
৩ ⋮
غَافِرِ الذَّنْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي الطَّوْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ ﴿٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তিনি মানুষের) গুনাহ মাফ করেন, তাওবা কবুল করেন, (তিনি) শাস্তি দানে কঠোর, (তিনি) বিপুল প্রভাবপ্রতিপত্তির মালিক; তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, (একদিন) তাঁর দিকেই (সবাইকে) ফিরে যেতে হবে ।
৪ ⋮
مَا يُجَادِلُ فِي آيَاتِ اللَّهِ إِلَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَا يَغْرُرْكَ تَقَلُّبُهُمْ فِي الْبِلَادِ ﴿٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) আল্লাহ তায়ালার (নাযিল করা এ) আয়াতসমুহ নিয়ে শুধু তারাই বিতর্কে লিপ্ত হয় যারা কুফরী করে, অতপর শহরে (বন্দরে) তাদের বিচরণ যেন (কোনোদিনই) তোমাকে প্রতারিত করতে না পারে।
৫ ⋮
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَالْأَحْزَابُ مِنْ بَعْدِهِمْ وَهَمَّتْ كُلُّ أُمَّةٍ بِرَسُولِهِمْ لِيَأْخُذُوهُ وَجَادَلُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ فَأَخَذْتُهُمْ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ ﴿٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাদের আগে নুহের জাতি (সে যমানার নবীদের) মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিলো, আবার তাদের পর অন্যান্য দলও (নবীদের অস্বীকার করেছে) , প্রত্যেক জাতিই তাদের নবীদের পাকড়াও করার জন্যে তাদের বিরুদ্ধে অভিসন্ধি এটেছিলো এবং সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্যে তারা অন্যাভাবে যুক্তি তর্কে লিপ্ত হয়েছিলো, (পরিণামে) আমিও তাদের পাকড়াও করেছি। (চেয়ে দেখো) , কেমন (ভীতিকর) ছিলো আমার আযাব!
৬ ⋮
وَكَذَلِكَ حَقَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّهُمْ أَصْحَابُ النَّارِ ﴿٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এভাবে কাফেরদের উপর তোমার মালিকের বাণীই সত্য প্রমাণিত হলো যে, এরা সত্যি সত্যিই জাহান্নামী।
৭ ⋮
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ ﴿٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যেসব (ফেরেশতা আল্লাহ তায়ালার) আরশ বহন করে চলেছে, যারা এর চারদিকে (কর্তব্যরত) রয়েছে, তারা নিজেদের মালিকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে চলেছে, তারা তাঁর উপর ঈমান রাখে, তারা ঈমানদারদের মাগফেরাতের জন্যে দোয়া করে (তারা বলে) , হে আমাদের মালিক, তুমি তোমার অনুগ্রহ ও জ্ঞানসহ সবকিছুর উপর ছেয়ে আছো, সুতরাং সেসব লোককে তুমি ক্ষমা করে দাও যারা তাওবা করে এবং যারা তোমার (দ্বীনের) পথ অনুসরণ করে, তুমি তাদের জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও!
৮ ⋮
رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدْتَهُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হে আমাদের মালিক, তুমি তাদের সেই স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করাও যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাদের দিয়েছো, তাদের পিতামাতা, তাদের স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সন্তান-সন্ততির মধ্যে যারা নেক কাজ করেছে (তাদেরও জান্নাতে প্রবেশ করাও) , নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়,
৯ ⋮
وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ وَمَنْ تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ﴿٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তুমি (কেয়ামতের দিন) তাদের দুঃখ-কষ্ট থেকে রক্ষা করো, (মুলত) সেদিন তুমি যাকেই দুঃখ কষ্ট থেকে বাঁচিয়ে দেবে, তাকে তুমি (বড়ো বেশী) দয়া করবে, আর এটাই হচ্ছে (সেদিনের) সবচাইতে বড়ো সাফল্য।
১০ ⋮
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنَادَوْنَ لَمَقْتُ اللَّهِ أَكْبَرُ مِنْ مَقْتِكُمْ أَنْفُسَكُمْ إِذْ تُدْعَوْنَ إِلَى الْإِيمَانِ فَتَكْفُرُونَ ﴿١٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে যারা কুফরী করেছে, (তাদের উদ্দেশ্যে) ঘোষণা দিয়ে বলা হবে, (আজ) তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের যে রোষ তার চাইতে আল্লাহ তায়ালার রোষ আরো বেশী (বিশেষ করে) , যখন তোমাদের ঈমানের দিকে ডাকা হচ্ছিলো আর তোমরা তা অস্বীকার করছিলে ।
১১ ⋮
قَالُوا رَبَّنَا أَمَتَّنَا اثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَى خُرُوجٍ مِنْ سَبِيلٍ ﴿١١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বলবে, হে আমাদের মালিক, তুমি তো দু'বার আমাদের মৃত্যু দিলে, আবার দু'বার জীবনও দিলে, আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকারও করেছি, অতএব (এখন আমাদের এখান থেকে) বেরিয়ে যাওয়ার কোনো রাস্তা আছে। কি?
১২ ⋮
ذَلِكُمْ بِأَنَّهُ إِذَا دُعِيَ اللَّهُ وَحْدَهُ كَفَرْتُمْ وَإِنْ يُشْرَكْ بِهِ تُؤْمِنُوا فَالْحُكْمُ لِلَّهِ الْعَلِيِّ الْكَبِيرِ ﴿١٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাদের বলা হবে, ) তোমাদের (এ শাস্তি) তো এ জন্যে, যখন তোমাদের এক আল্লাহর দিকে ডাকা হতো তখন তোমরা তা অস্বীকার করতে, যখন তাঁর সাথে শরীক করা হতো তখন তোমরা তা মেনে নিতে; (আজ) সর্বময় সিদ্ধান্তের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা তিনি সর্বোচ্চ, তিনি মহান।
১৩ ⋮
هُوَ الَّذِي يُرِيكُمْ آيَاتِهِ وَيُنَزِّلُ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ رِزْقًا وَمَا يَتَذَكَّرُ إِلَّا مَنْ يُنِيبُ ﴿١٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে মানুষ, ) তিনিই আল্লাহ তায়ালা, যিনি তোমাদের তাঁর (কুদরতের) নিদর্শনসমুহ দেখান এবং আসমান। থেকে তোমাদের জন্যে রিযিক পাঠান, (আসলে এ থেকে) তারাই শিক্ষা গ্রহণ করে যারা (একান্তভাবে) আল্লাহ তায়ালার দিকে নিবষ্টি হয়।
১৪ ⋮
فَادْعُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ ﴿١٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতএব (হে মুসলমানরা) , তোমরা (তোমাদের) জীবন বিধানকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তায়ালার জন্যেই নিবেদিত করো, একমাত্র তাঁকেই ডাকো, যদিও কাফেররা (এটা) পছন্দ করে না।
১৫ ⋮
رَفِيعُ الدَّرَجَاتِ ذُو الْعَرْشِ يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ لِيُنْذِرَ يَوْمَ التَّلَاقِ ﴿١٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের মহান অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপর ইচ্ছা তাঁর আদেশসহ তার উপর ওহী পাঠান, যাতে করে সে (ওহীপ্রাপ্ত রসূল আল্লাহর সাথে) সাক্ষাত লাভের (এ) দিনটির ব্যাপারে (বান্দাদের) সাবধান করে দিতে পারে,
১৬ ⋮
يَوْمَ هُمْ بَارِزُونَ لَا يَخْفَى عَلَى اللَّهِ مِنْهُمْ شَيْءٌ لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ ﴿١٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সেদিন (যখন) মানুষ (হাশরের ময়দানে) বেরিয়ে পড়বে, (তখন) তাদের কোনো কিছুই আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে গোপন থাকবে না; (বলা হবে, ) আজ সর্বময় রাজত্ব ও কর্তৃত্ব কার জন্যে? (জবাব আসবে, ) প্রবল পরাক্রমশালী এক আল্লাহ তায়ালার জন্যে।
১৭ ⋮
الْيَوْمَ تُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ لَا ظُلْمَ الْيَوْمَ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿١٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আজ প্রত্যেক মানুষকে সে পরিমাণ প্রতিফলই দেয়া হবে যে পরিমাণ সে (দুনিয়ায়) অর্জন করে এসেছে; আজ কারও প্রতি কোনোরকম অবিচার হবে না, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা হিসাব গ্রহণে তৎপর ।
১৮ ⋮
وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْآزِفَةِ إِذِ الْقُلُوبُ لَدَى الْحَنَاجِرِ كَاظِمِينَ مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلَا شَفِيعٍ يُطَاعُ ﴿١٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি তাদের আসন্ন (কেয়ামতের) দিন সম্পর্কে সতর্ক করে দাও, যখন কষ্টে তাদের প্রাণ কণ্ঠাগত হবে, (চারদিক থেকে) দম বন্ধ হবার উপক্রম হবে; সেদিন যালেমদের (আসলেই) কোনো বন্ধু থাকবে না, থাকবে এমন কোনো সুপারিশকারী, যা (তখন) গ্রাহ্য করা হবে;
১৯ ⋮
يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ ﴿١٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনি চোখের খেয়ানত সম্পর্কে (যেমন) জানেন, (তেমনি জানেন) যা কিছু (মানুষের) মন গোপন করে রাখে (সে সব কিছুও) ।
২০ ⋮
وَاللَّهُ يَقْضِي بِالْحَقِّ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لَا يَقْضُونَ بِشَيْءٍ إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴿٢٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালা (তাঁর বান্দাদের মাঝে) ন্যায়বিচার করেন; (কিন্তু) ওরা আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে যাদের ডাকে তারা (অন্যের ন্যায়বিচার তো দুরের কথা, নিজেদের) কোনো বিচার ফয়সালাও করতে সক্ষম নয়; (মুলত) আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
২১ ⋮
أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ كَانُوا مِنْ قَبْلِهِمْ كَانُوا هُمْ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَآثَارًا فِي الْأَرْضِ فَأَخَذَهُمُ اللَّهُ بِذُنُوبِهِمْ وَمَا كَانَ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ وَاقٍ ﴿٢١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ লোকগুলো কি (আমার) যমীনে ঘোরাফেরা করে না? (ঘুরলে) অতপর তারা দেখতে পেতো এদের আগের লোকগুলোর কি পরিণাম হয়েছিলো; অথচ শক্তিমত্তার দিক থেকে (হোক) এবং যেসব কীর্তি তারা (এ) দুনিয়ায় রেখে গেছে (সে দৃষ্টিতে হোক) , যমীনে তারা ছিলো (এদের চাইতে) অনেক বেশী প্রবল, (কিন্তু) আল্লাহ তায়ালা তাদের অপরাধের জন্যে তাদের পাকড়াও করলেন; আল্লাহ তায়ালার গযব থেকে তাদের রক্ষা করার মতো কেউই ছিলো না।
২২ ⋮
ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانَتْ تَأْتِيهِمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَكَفَرُوا فَأَخَذَهُمُ اللَّهُ إِنَّهُ قَوِيٌّ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿٢٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এটা এ কারণে, তাদের কাছে (সুস্পষ্ট) নিদর্শনসহ আল্লাহ তায়ালার রসূলদের আগমন সত্ত্বেও ওরা তাদের অস্বীকার করেছিলো, অতপর আল্লাহ তায়ালা তাদের পাকড়াও করলেন, তিনি খুব শক্তিশালী, শাস্তিদানেও তিনি কঠোর ।
২৩ ⋮
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُبِينٍ ﴿٢٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি আমার আয়াত ও সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণসহ মুসাকে পাঠিয়েছিলাম,
২৪ ⋮
إِلَى فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَقَارُونَ فَقَالُوا سَاحِرٌ كَذَّابٌ ﴿٢٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তাকে পাঠিয়েছিলাম) ফেরাউন, হামান ও কারূনের কাছে, অতপর ওরা বললো, এ তো হচ্ছে এক চরম মিথ্যাবাদী যাদুকর।
২৫ ⋮
فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْحَقِّ مِنْ عِنْدِنَا قَالُوا اقْتُلُوا أَبْنَاءَ الَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ وَاسْتَحْيُوا نِسَاءَهُمْ وَمَا كَيْدُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ ﴿٢٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর যখন সে আমার কাছ থেকে সত্য (দ্বীন) নিয়ে তাদের কাছে এলো, তখন তারা বললো, যারা তার সাথে (আল্লাহ তায়ালার উপর) ঈমান এনেছে তাদের পুত্র সন্তানদের তোমরা হত্যা করো এবং (শুধু) তাদের কন্যাদেরই জীবিত রাখো; (কিন্তু) কাফেরদের ষড়যন্ত্র (তো) ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
২৬ ⋮
وَقَالَ فِرْعَوْنُ ذَرُونِي أَقْتُلْ مُوسَى وَلْيَدْعُ رَبَّهُ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَنْ يُظْهِرَ فِي الْأَرْضِ الْفَسَادَ ﴿٢٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (এক পর্যায়ে) ফেরাউন (তার পারিষদদের) বললো, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও আমি মুসাকে হত্যা করে ফেলি, ডাকুক সে তার রবকে, আমি আশংকা করছি সে তোমাদের গোটা জীবন ব্যবস্থাই পাল্টে দেবে এবং (এ) যমীনেও সে (নানারকমের) বিপর্যয় ঘটাবে।
২৭ ⋮
وَقَالَ مُوسَى إِنِّي عُذْتُ بِرَبِّي وَرَبِّكُمْ مِنْ كُلِّ مُتَكَبِّرٍ لَا يُؤْمِنُ بِيَوْمِ الْحِسَابِ ﴿٢٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । মুসা বললো, প্রতিটি উদ্ধত ব্যক্তি, যে হিসাব নিকাশের দিনকে বিশ্বাস করে না, আমি তার (অনিষ্ট) থেকে আমার মালিক ও তোমাদের মালিকের কাছে (আগেই) পানাহ চেয়ে নিয়েছি।
২৮ ⋮
وَقَالَ رَجُلٌ مُؤْمِنٌ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَكْتُمُ إِيمَانَهُ أَتَقْتُلُونَ رَجُلًا أَنْ يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ وَقَدْ جَاءَكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ رَبِّكُمْ وَإِنْ يَكُ كَاذِبًا فَعَلَيْهِ كَذِبُهُ وَإِنْ يَكُ صَادِقًا يُصِبْكُمْ بَعْضُ الَّذِي يَعِدُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ ﴿٢٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । একজন মু’মিন ব্যক্তি যে ছিলো (স্বয়ং) ফেরাউনের গোত্রেরই লোক (এবং) যে ব্যক্তি নিজের ঈমান (এতদিন পর্যন্ত) গোপন করে আসছিলো, (সব শুনে) বললো (আচ্ছা) , তোমরা কি একজন লোককে (শুধু এ জন্যেই) হত্যা করতে চাও, যে ব্যক্তি বলে আমার মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা, (অথচ) সে তোমাদের মালিকের কাছ থেকে সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণসহই তোমাদের কাছে এসেছে; যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তার (এ) মিথ্যা তো তার উপরই (বর্তাবে) , আর যদি সে সত্যবাদী হয় তাহলে যে (আযাবের) ব্যাপারে সে তোমাদের কাছে ওয়াদা করছে তার কিছু না কিছু তো এসে তোমাদের পাকড়াও করবে; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা এমন লোককে সঠিক পথ দেখান যে সীমালংঘনকারী, মিথ্যাবাদী।
২৯ ⋮
يَاقَوْمِ لَكُمُ الْمُلْكُ الْيَوْمَ ظَاهِرِينَ فِي الْأَرْضِ فَمَنْ يَنْصُرُنَا مِنْ بَأْسِ اللَّهِ إِنْ جَاءَنَا قَالَ فِرْعَوْنُ مَا أُرِيكُمْ إِلَّا مَا أَرَى وَمَا أَهْدِيكُمْ إِلَّا سَبِيلَ الرَّشَادِ ﴿٢٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (সে বললো, ) হে আমার জাতির লোকেরা, এ যমীনে আজ তোমরা হচ্ছো ক্ষমতাবান, কিন্তু (আগামীকাল) আমাদের উপর (আযাব) এসে গেলে কে আমাদের আল্লাহর (পাঠানো) দুর্যোগ থেকে সাহায্য করবে; ফেরাউন বললো, আমি তো (এ ব্যাপারে) তোমাদের সে রায়ই দেবো, যেটা আমি (ঠিক হিসেবে) দেখবো, আমি তো তোমাদের সত্য পথ ছাড়া অন্য কিছুই দেখাবো না ।
৩০ ⋮
وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَاقَوْمِ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ مِثْلَ يَوْمِ الْأَحْزَابِ ﴿٣٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (যে ব্যক্তি গোপনে) ঈমান এনেছিলো সে বললো, হে আমার জাতি, আমি তোমাদের জন্যে পুর্ববর্তী সমপ্রদায় সমুহের মতোই (আযাবের) দিনের আশংকা করছি,
৩১ ⋮
مِثْلَ دَأْبِ قَوْمِ نُوحٍ وَعَادٍ وَثَمُودَ وَالَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ وَمَا اللَّهُ يُرِيدُ ظُلْمًا لِلْعِبَادِ ﴿٣١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তোমাদের অবস্থা এমন যেন না হয়) যেমনটি (হয়েছিলো) নুহের জাতি, আ'দ, সামুদ ও তাদের পরে যারা এসেছিলো (তাদের সবার) ; আল্লাহ তায়ালা কখনো তাঁর বান্দাদের উপর যুলুম করতে চান না।
৩২ ⋮
وَيَا قَوْمِ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ يَوْمَ التَّنَادِ ﴿٣٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হে আমার জাতি, আমি তোমাদের জন্যে প্রচন্ড হাঁক ডাকের (কেয়ামত) দিবসের (আযাবের) আশংকা করি,
৩৩ ⋮
يَوْمَ تُوَلُّونَ مُدْبِرِينَ مَا لَكُمْ مِنَ اللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ ﴿٣٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সেদিন তোমরা পেছন ফিরে পালাবে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালার (পাকড়াও) থেকে তোমাদের রক্ষা করার কেউই থাকবে না, (আসলে) আল্লাহ তায়ালা যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্যে কোনো পথ প্রদর্শনকারীই থাকে না।
৩৪ ⋮
وَلَقَدْ جَاءَكُمْ يُوسُفُ مِنْ قَبْلُ بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا زِلْتُمْ فِي شَكٍّ مِمَّا جَاءَكُمْ بِهِ حَتَّى إِذَا هَلَكَ قُلْتُمْ لَنْ يَبْعَثَ اللَّهُ مِنْ بَعْدِهِ رَسُولًا كَذَلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ مُرْتَابٌ ﴿٣٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এর আগে তোমাদের কাছে (নবী) ইউসুফ সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিলো, কিন্তু সে যা কিছু বিধান নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে তোমরা তাতে (শুধু) সন্দেহই পোষণ করেছে; এমনকি যখন সে মরে গেলো তখন তোমরা বলতে শুরু করলে, আল্লাহ তায়ালা কখনো আর কোনো রসুল পাঠাবেন না; (মুলত) আল্লাহ তায়ালা এভাবেই (নানা বিভ্রান্তিতে ফেলে) সীমালংঘনকারী ও সংশয়বাদীদের গোমরাহ করে থাকেন,
৩৫ ⋮
الَّذِينَ يُجَادِلُونَ فِي آيَاتِ اللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَانٍ أَتَاهُمْ كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ وَعِنْدَ الَّذِينَ آمَنُوا كَذَلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَى كُلِّ قَلْبِ مُتَكَبِّرٍ جَبَّارٍ ﴿٣٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যারা তাদের নিজেদের কাছে আসা দলীল প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তায়ালার আয়াতসমুহ নিয়ে বিতন্ডায় লিপ্ত হয়; তারা আল্লাহ তায়ালা ও ঈমানদারদের কাছে খুবই অসন্তোষের কারণ বলে বিবেচিত; আল্লাহ তায়ালা এভাবেই প্রতিটি অহংকারী ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়ের উপর মোহর মেরে দেন।
৩৬ ⋮
وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَاهَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ ﴿٣٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ফেরাউন (একদিন উযীর হামানকে) বললো, হে হামান, আমার জন্যে তুমি একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে করে আমি (আকাশে চড়ার) কিছু একটা অবলম্বন পেতে পারি,
৩৭ ⋮
أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا وَكَذَلِكَ زُيِّنَ لِفِرْعَوْنَ سُوءُ عَمَلِهِ وَصُدَّ عَنِ السَّبِيلِ وَمَا كَيْدُ فِرْعَوْنَ إِلَّا فِي تَبَابٍ ﴿٣٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আকাশে চড়ার অবলম্বন এমন হবে) যেন আমি মুসার মাবুদকে (তা দিয়ে উঁকি মেরে) দেখে আসতে পারি, অবশ্য আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি; এভাবেই ফেরাউনের কাছে তার এ নিকৃষ্ট কাজটি শোভনীয় (প্রতীয়মান) করা হলো এবং তাকে (সত্য পথ থেকে) নিবৃত্ত করা হলো; (মুলত) ফেরাউনের ষড়যন্ত্র (তার নিজের) ধ্বংস ছাড়া আর কিছু নয়।
৩৮ ⋮
وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَاقَوْمِ اتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ الرَّشَادِ ﴿٣٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যে ব্যক্তিটি ঈমান এনেছিলো সে বললো, হে আমার জাতি, তোমরা আমার কথা শুনো, আমি তোমাদের (একটা) সঠিক পথের সন্ধান দিচ্ছি,
৩৯ ⋮
يَاقَوْمِ إِنَّمَا هَذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ ﴿٣٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হে আমার সম্প্রদায়, (তোমাদের) এ দুনিয়ার জীবন (কয়েকটি দিনের) উপভোগের বস্তু মাত্র, স্থায়ী নিবাস তো হচ্ছে আখেরাত!
৪০ ⋮
مَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا وَمَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ حِسَابٍ ﴿٤٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করবে তাকে সে পরিমাণের চাইতে বেশী প্রতিফল দেয়া হবে না, পুরুষ হোক কিংবা নারী, যে কেউই নেক কাজ করবে সে-ই মু’মিন (হিসেবে গণ্য হবে হাঁ, ) , এমন ধরনের লোকেরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেখানে তাদের অপরিমিত রিযিক দেয়া হবে।
৪১ ⋮
وَيَا قَوْمِ مَا لِي أَدْعُوكُمْ إِلَى النَّجَاةِ وَتَدْعُونَنِي إِلَى النَّارِ ﴿٤١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । হে আমার জাতি, এ কি আশ্চর্য, আমি তোমাদের (জাহান্নাম থেকে) মুক্তির দিকে ডাকছি, আর তোমরা আমাকে ডাকছো জাহান্নামের দিকে!
৪২ ⋮
تَدْعُونَنِي لِأَكْفُرَ بِاللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَأَنَا أَدْعُوكُمْ إِلَى الْعَزِيزِ الْغَفَّارِ ﴿٤٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমরা আমাকে একথার দিকে দাওয়াত দিচ্ছো যেন আমি আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করি এবং তাঁর (সাথে) অন্য কাউকে শরীক করি, যার সমর্থনে আমার কাছে কোনো জ্ঞান নেই, (পক্ষান্তরে) আমি তোমাদের আহ্বান করছি সেই আল্লাহ তায়ালার দিকে, যিনি পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল।
৪৩ ⋮
لَا جَرَمَ أَنَّمَا تَدْعُونَنِي إِلَيْهِ لَيْسَ لَهُ دَعْوَةٌ فِي الدُّنْيَا وَلَا فِي الْآخِرَةِ وَأَنَّ مَرَدَّنَا إِلَى اللَّهِ وَأَنَّ الْمُسْرِفِينَ هُمْ أَصْحَابُ النَّارِ ﴿٤٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যে বিষয়টির প্রতি তোমরা আমাকে ডাকছো, দুনিয়াতে তার দিকে ডাকা (কোনো মানুষের জন্যেই) শোভনীয় নয়, (তেমনি) পরকালে তো (মোটেই) নয়, কেননা আমাদের সবাইকে তো আল্লাহ তায়ালার দিকেই ফিরে যেতে হবে, (সত্যি কথা হচ্ছে) , যারা সীমালংঘন করে তারা অবশ্যই জাহান্নামের অধিবাসী।
৪৪ ⋮
فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُولُ لَكُمْ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ ﴿٤٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আজ) আমি তোমাদের যা কিছু বলছি, অচিরেই তোমরা তা স্মরণ করবে, আর আমি তো আমার কাজকর্ম (বিষয় আসয়) আল্লাহ তায়ালার কাছেই সোপর্দ করছি, নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি সবিশেষ নযর রাখেন।
৪৫ ⋮
فَوَقَاهُ اللَّهُ سَيِّئَاتِ مَا مَكَرُوا وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ ﴿٤٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর আল্লাহ তায়ালা তাকে ওদের যাবতীয় ষড়যন্ত্রের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করলেন (অপর দিকে একটা) কঠিন শাস্তি (এসে) ফেরাউন সম্প্রদায়কে গ্রাস করে নিলো,
৪৬ ⋮
النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ ﴿٤٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (জাহান্নামের) আগুন, যার সামনে তাদের সকাল সন্ধ্যায় হাযির করা হবে, আর যেদিন কেয়ামত ঘটবে (সেদিন ফেরেশতাদের বলা হবে) , ফেরাউনের দলবলকে কঠিন আযাবে নিক্ষেপ করো।
৪৭ ⋮
وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ فَيَقُولُ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُغْنُونَ عَنَّا نَصِيبًا مِنَ النَّارِ ﴿٤٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন এ লোকেরা জাহান্নামে বসে পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হবে, অতপর (যারা) দুর্বল (ছিলো) তারা এমন সব লোকদের বলবে, যারা ছিলো অহংকারী আমরা তো (দুনিয়ায়) তোমাদের অনুসারী ছিলাম, (এখন জাহান্নামের) আগুনের কিছু অংশ কি তোমরা আমাদের কাছ থেকে নিবারণ করতে পারবে?
৪৮ ⋮
قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُلٌّ فِيهَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ ﴿٤٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অহংকারীরা (এর জবাবে) বলবে (কিভাবে তা সম্ভব) , আমরা সবাই তো তার ভেতরেই পড়ে আছি, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের মাঝে (চুড়ান্ত) ফয়সালা করে দিয়েছেন।
৪৯ ⋮
وَقَالَ الَّذِينَ فِي النَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ادْعُوا رَبَّكُمْ يُخَفِّفْ عَنَّا يَوْمًا مِنَ الْعَذَابِ ﴿٤٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তারপর) যারা জাহান্নামে পড়ে থাকবে তারা (এখানকার) প্রহরীদের (উদ্দেশ করে) বলবে, তোমরা (অন্তত আমাদের জন্যে) তোমাদের মালিকের কাছে দোয়া করো, তিনি যেন কোনো না) কোনো একটি দিন আমাদের উপর থেকে আযাব কম করে দেন।
৫০ ⋮
قَالُوا أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا بَلَى قَالُوا فَادْعُوا وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ ﴿٥٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তারা বলবে, এমনকি হয়নি যে, তোমাদের কাছে তোমাদের নবীরা সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছে, তারা বলবে হ্যাঁ, (এসেছিলো, কিন্তু আমরা তাদের কথা শুনিনি, জাহান্নামের যারা প্রহরী) তারা বলবে, (তাহলে তোমাদের) দোয়া তোমরা নিজেরাই করো, (আর সত্য কথা হচ্ছে) , কাফেরদের দোয়া ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
৫১ ⋮
إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ ﴿٥١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিশ্চয়ই আমি আমার নবীদের ও (তাদের উপর) যারা ঈমান এনেছে তাদের এ বৈষয়িক দুনিয়ায় (যেমন) সাহায্য করি, তেমনি সেদিনও সাহায্য করবো) যেদিন (তাদের পক্ষে কথা বলার জন্যে) সাক্ষীরা দাঁড়িয়ে যাবে,
৫২ ⋮
يَوْمَ لَا يَنْفَعُ الظَّالِمِينَ مَعْذِرَتُهُمْ وَلَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ ﴿٥٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সেদিন যালেমদের ওযর আপত্তি কোনোই উপকারে আসবে না, তাদের জন্যে (শুধু থাকবে) অভিশাপ, তাদের জন্যে আরো থাকবে নিকৃষ্টতম আবাস ।
৫৩ ⋮
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْهُدَى وَأَوْرَثْنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ الْكِتَابَ ﴿٥٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আমি মুসাকে অবশ্যই পথনির্দেশিকা দান করেছিলাম এবং বনী ইসরাঈলদেরও (আমার) কিতাবের উত্তরাধিকারী বানিয়েছিলাম,
৫৪ ⋮
هُدًى وَذِكْرَى لِأُولِي الْأَلْبَابِ ﴿٥٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (তা ছিলো) জ্ঞানবান মানুষদের জন্যে হেদায়াত ও (সুস্পষ্ট) উপদেশ।
৫৫ ⋮
فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ ﴿٥٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর তুমি ধৈর্য ধারণ করো, আল্লাহ তায়ালার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য, তুমি (বরং) তোমার গুনাহখাতার জন্যে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সকাল সন্ধ্যায় তোমার মালিকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো।
৫৬ ⋮
إِنَّ الَّذِينَ يُجَادِلُونَ فِي آيَاتِ اللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَانٍ أَتَاهُمْ إِنْ فِي صُدُورِهِمْ إِلَّا كِبْرٌ مَا هُمْ بِبَالِغِيهِ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴿٥٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিজেদের কাছে কোনো দলীল প্রমাণ না আসা সত্ত্বেও যারা আল্লাহ তায়ালার নাযিল করা আয়াতসমুহ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের অন্তরে কেবল অহংকারই (ছেয়ে) থাকে, তারা কখনো সে (সাফল্যের) জায়গায় পৌঁছুবার (যোগ্য) নয়, অতএব (হে নবী) , তুমি (এদের অনিষ্ট থেকে) আল্লাহ তায়ালার কাছে পানাহ চাও; অবশ্যই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
৫৭ ⋮
لَخَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَكْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ ﴿٥٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । নিসন্দেহে আসমান ও যমীন সৃষ্টি করা মানুষকে (দ্বিতীয় বার) সৃষ্টি করা অপেক্ষা বেশী কঠিন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না ।
৫৮ ⋮
وَمَا يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَلَا الْمُسِيءُ قَلِيلًا مَا تَتَذَكَّرُونَ ﴿٥٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অন্ধ ও চক্ষুষ্মন ব্যক্তি (কখনো) সমান হয় না, (ঠিক তেমনি) যারা ঈমান আনে ও নেক আমল করে, তারা এবং দুষ্কৃতিপরায়ণ ব্যক্তি (কখনো) সমান নয়; (আসলে) তোমাদের কমসংখ্যক লোকই (আমার হেদায়াত থেকে) উপদেশ গ্রহণ করে।
৫৯ ⋮
إِنَّ السَّاعَةَ لَآتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٥٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । কেয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ লোকই তা বিশ্বাস করে না ।
৬০ ⋮
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ ﴿٦٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমাদের মালিক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো; যারা অহংকারের কারণে আমার ইবাদাত থেকে নাফরমানী করে, অচিরেই তারা অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে ।
৬১ ⋮
اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِتَسْكُنُوا فِيهِ وَالنَّهَارَ مُبْصِرًا إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ ﴿٦١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালা যিনি তোমাদের জন্যে রাত বানিয়েছেন যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পারো এবং দিনকে পর্যবেক্ষণকারী আলোকোজ্জ্বল করেছেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মানুষের প্রতি সবিশেষ অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা আদায় করে না।
৬২ ⋮
ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ ﴿٦٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এ হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা, তিনি তোমাদের মালিক, প্রত্যেকটি জিনিসের একক স্রষ্টা। তিনি ব্যতীত অন্য কোনো মাবুদ নেই (বলো) , তোমরা (কোথায়) কোথায় ঠোকর খাবে!
৬৩ ⋮
كَذَلِكَ يُؤْفَكُ الَّذِينَ كَانُوا بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ ﴿٦٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যারা আল্লাহ তায়ালার আয়াতকে অস্বীকার করেছে তাদেরও এভাবে (দ্বারে দ্বারে) ঠোকর খাওয়ানো হয়েছিলো!
৬৪ ⋮
اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ قَرَارًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَتَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ ﴿٦٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালাই তোমাদের জন্যে ভূমিকে বাসোপযোগী (স্থান) বানিয়ে দিয়েছেন, আসমানকে বানিয়েছেন ছাদ, তিনি তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন, সুতরাং যে আকৃতি তিনি গঠন করেছেন তা কতো সুন্দর এবং ভালো ভালো জিনিস থেকে তোমাদের রিযিক দান করেছেন; সে আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন তোমাদের মালিক, কতো মহান বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালা!
৬৫ ⋮
هُوَ الْحَيُّ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٦٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, অতএব একান্ত নিষ্ঠাবান হয়ে তোমরা তাঁর ইবাদাত করো; সমস্ত তারীফ সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার জন্যে!
৬৬ ⋮
قُلْ إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَمَّا جَاءَنِيَ الْبَيِّنَاتُ مِنْ رَبِّي وَأُمِرْتُ أَنْ أُسْلِمَ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿٦٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি (তাদের) বলো, আমাকে নিষেধ করা হয়েছে যেন আমি তাদের ইবাদাত না করি, যাদের তোমরা আল্লাহ তায়ালার বদলে ডাকো, (তা ছাড়া) যখন আমার কাছে আমার মালিকের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমুহ এসে গেছে, আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে যেন আমি আল্লাহ তায়ালার অনুগত বান্দা হয়ে যাই।
৬৭ ⋮
هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُونُوا شُيُوخًا وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّى مِنْ قَبْلُ وَلِتَبْلُغُوا أَجَلًا مُسَمًّى وَلَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٦٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনিই আল্লাহ তায়ালা, যিনি তোমাদের মাটি থেকে পয়দা করেছেন, অতপর শুক্রবিন্দু থেকে তারপর জমাট রক্ত থেকে (বানিয়ে) তোমাদের শিশু হিসেবে বের করে আনেন, তারপর তোমরা যৌবনপ্রাপ্ত হও, (এক সময় আবার) উপনীত হও বার্ধক্যে, তোমাদের কাউকে আগেই মৃত্যু দেয়া হবে, (এসব প্রক্রিয়া এ জন্যেই রাখা হয়েছে) যেন তোমরা (সবাই) নির্দষ্টি সময়ে পৌঁছুতে পারো এবং আশা করা যায়, (এর ফলে) তোমরা (সঠিক ঘটনা) বুঝতে পারবে।
৬৮ ⋮
هُوَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ فَإِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ ﴿٦٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তিনিই আল্লাহ তায়ালা, যিনি তোমাদের জীবন দান করেন, তিনি তোমাদের মৃত্যুও ঘটান, তিনি যখন কোনো কিছু করা সিদ্ধান্ত করেন তখন শুধু এটুকুই বলেন ‘হও', অতপর “তা হয়ে যায় ।
৬৯ ⋮
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يُجَادِلُونَ فِي آيَاتِ اللَّهِ أَنَّى يُصْرَفُونَ ﴿٦٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি কি ওদের (অবস্থার দিকে তাকিয়ে দেখোনি, যারা আল্লাহ তায়ালার (নাযিল করা) আয়াত সম্পর্কে নানা বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছে; (তুমি কি বলতে পারো আসলে) ওরা (সত্যকে ফেলে) কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে?
৭০ ⋮
الَّذِينَ كَذَّبُوا بِالْكِتَابِ وَبِمَا أَرْسَلْنَا بِهِ رُسُلَنَا فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ ﴿٧٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (ওরা) সেসব লোক যারা (এ) কিতাব অস্বীকার করে, (অস্বীকার করে) সেসব কিতাবও, যা আমি (ইতিপুর্বে) নবীদের কাছে পাঠিয়েছিলাম । অতএব অতিশীঘ্রই তারা (নিজেদের পরিণাম) জানতে পারবে;
৭১ ⋮
إِذِ الْأَغْلَالُ فِي أَعْنَاقِهِمْ وَالسَّلَاسِلُ يُسْحَبُونَ ﴿٧١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যেদিন ওদের গলদেশে (আযাবের) বেড়ি ও শেকল (পরিবেষ্টিত) থাকবে, (সেদিন) তাদের টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হবে,
৭২ ⋮
فِي الْحَمِيمِ ثُمَّ فِي النَّارِ يُسْجَرُونَ ﴿٧٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । ফুটন্ত পানিতে, অতপর তাদের আগুনে দগ্ধীভূত করা হবে,
৭৩ ⋮
ثُمَّ قِيلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ تُشْرِكُونَ ﴿٧٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তাদের বলা হবে, কোথায় (আজ) তারা যাদের তোমরা (আল্লাহ তায়ালার সাথে) শরীক করতে?
৭৪ ⋮
مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالُوا ضَلُّوا عَنَّا بَلْ لَمْ نَكُنْ نَدْعُو مِنْ قَبْلُ شَيْئًا كَذَلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ الْكَافِرِينَ ﴿٧٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালার বদলে, (যাদের তোমরা ডাকতে তারাই বা আজ কোথায়?) তারা বলবে, তারা তো (আজ সবাই) আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে, (আসলে) আমরা তো আগে (কখনো) এমন কিছুকে ডাকিনি; আল্লাহ তায়ালা এভাবেই কাফেরদের বিভ্রান্ত করেন।
৭৫ ⋮
ذَلِكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَفْرَحُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَبِمَا كُنْتُمْ تَمْرَحُونَ ﴿٧٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (আজ) এ কারণেই তোমাদের (এ পরিণাম) হয়েছে যে, তোমরা দুনিয়াতে অন্যায়ভাবে আনন্দ উল্লাসে মেতে থাকতে এবং তোমরা (ক্ষমাহীন) অহংকার করতে,
৭৬ ⋮
ادْخُلُوا أَبْوَابَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا فَبِئْسَ مَثْوَى الْمُتَكَبِّرِينَ ﴿٧٦﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । সুতরাং (এখন) তোমরা জাহান্নামের দরজাসমুহে (ভেতরে) প্রবেশ করো, সেখানে তোমরা চিরকাল থাকবে, কতো নিকৃষ্ট অহংকারীদের এ আবাসস্থল!
৭৭ ⋮
فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ فَإِمَّا نُرِيَنَّكَ بَعْضَ الَّذِي نَعِدُهُمْ أَوْ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِلَيْنَا يُرْجَعُونَ ﴿٧٧﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে নবী, ) তুমি ধৈর্য ধারণ করো, তোমার মালিকের ওয়াদা অবশ্যই সত্য, আমি ওদের কাছে যে (শাস্তির) ওয়াদা করেছি (তার) কিছু অংশ যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগেই) যদি আমি তোমাকে মৃত্যু দেই, (তাতে দুশ্চিন্তার কারণ নেই, ) তাদের তো অতপর আমার কাছে ফিরে আসতেই হবে ।
৭৮ ⋮
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ مِنْهُمْ مَنْ قَصَصْنَا عَلَيْكَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ نَقْصُصْ عَلَيْكَ وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَنْ يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ فَإِذَا جَاءَ أَمْرُ اللَّهِ قُضِيَ بِالْحَقِّ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْمُبْطِلُونَ ﴿٧٨﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । (হে মোহাম্মদ, ) আমি তোমার আগে (অনেক) নবী প্রেরণ করেছি, তাদের কারো কারো ঘটনা আমি তোমাকে শুনিয়েছি, (আবার এমনও আছে) তাদের কথা তোমার কাছে আমি আদৌ বর্ণনাই করিনি; (আসলে) আল্লাহ তায়ালার অনুমতি ছাড়া কোনো নিদর্শন উপস্থিত করা কোনো রসুলের কাজ নয়, আর যখন আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা এসে যাবে তখন তো সব কিছুর যথাযথ মীমাংসা হয়েই যাবে, আর (সে ফয়সালায়) ক্ষতিগ্রস্ত হবে একমাত্র মিথ্যাশ্রয়ীরাই।
৭৯ ⋮
اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَنْعَامَ لِتَرْكَبُوا مِنْهَا وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ ﴿٧٩﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালাই সেই (মহান) সত্তা যিনি তোমাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তু পয়দা করেছেন, যেন তোমরা তার (কতেক প্রকারের) উপর আরোহণ করতে পারো, আর তার (মধ্যে কতেক প্রকারের) তোমরা গোশত খেতে পারো,
৮০ ⋮
وَلَكُمْ فِيهَا مَنَافِعُ وَلِتَبْلُغُوا عَلَيْهَا حَاجَةً فِي صُدُورِكُمْ وَعَلَيْهَا وَعَلَى الْفُلْكِ تُحْمَلُونَ ﴿٨٠﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । তোমাদের জন্যে তাতে আরো বহুবিধ কল্যাণ রয়েছে, তোমরা তার উপর আরোহণ করো, তোমাদের নিজেদের মনের (ইচ্ছা) ও প্রয়োজনের স্থানে (তাদের নিয়ে) উপনীত হতে পারো, (তোমরা) তার উপর (যেমনি আরোহন করো তেমনি) নৌকার উপরও তোমরা আরোহণ করো;
৮১ ⋮
وَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ فَأَيَّ آيَاتِ اللَّهِ تُنْكِرُونَ ﴿٨١﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । আল্লাহ তায়ালা তোমাদের (কুদরতের আরো) নিদর্শন দেখাচ্ছেন, তুমি আল্লাহ তায়ালার কোন কোন নিদর্শন অস্বীকার করবে (বলো) !
৮২ ⋮
أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْهُمْ وَأَشَدَّ قُوَّةً وَآثَارًا فِي الْأَرْضِ فَمَا أَغْنَى عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ ﴿٨٢﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । এরা কি যমীনে চলাফেরা করেনি, (করলে) তারা অতপর দেখতে পেতো তাদের পুর্ববর্তী লোকদের পরিণাম কি হয়েছিলো; তারা সংখ্যায় এদের চাইতে ছিলো অনেক বেশী, শক্তি ক্ষমতা এবং যমীনে রেখে যাওয়া কীর্তিতেও তারা (ছিলো) অনেক প্রবল, কিন্তু তারা যা কিছু কাজকর্ম করেছে তা তাদের কোনোই কাজে আসেনি।
৮৩ ⋮
فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَرِحُوا بِمَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْعِلْمِ وَحَاقَ بِهِمْ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ ﴿٨٣﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । যখন তাদের নবীরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণপত্র নিয়ে হাযির হলো, তখন তাদের কাছে জ্ঞানের যা কিছু ছিলো তা নিয়ে তারা গর্ব করলো এবং (দেখতে দেখতে) সে আযাব তাদের এসে ঘিরে ফেললো, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো।
৮৪ ⋮
فَلَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا قَالُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَحْدَهُ وَكَفَرْنَا بِمَا كُنَّا بِهِ مُشْرِكِينَ ﴿٨٤﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । অতপর তারা যখন (সত্যি সত্যিই) আমার আযাব আসতে দেখলো তখন বলে উঠলো, হাঁ, আমরা এক আল্লাহ তায়ালার উপর ঈমান আনলাম, যাদের আমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে শরীক করতাম তাদের আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম ।
৮৫ ⋮
فَلَمْ يَكُ يَنْفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا سُنَّتَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ فِي عِبَادِهِ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكَافِرُونَ ﴿٨٥﴾
হাঃ মুনিরউদ্দিন আহমেদ । কিন্তু তারা যখন আমার আযাব দেখলো, তখন তাদের ঈমান তাদের কোনো উপকারেই এলো না; আল্লাহ তায়ালার এ নীতি (হামেশাই) তাঁর বান্দাদের মাঝে (কার্যকর) হয়ে আসছে, আর এখানে কাফেররা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।